Description
1. অপরিসীম সওয়াব ও রহমত:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে, শিখবে ও তার উপর আমল করবে, কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতার মাথায় এমন এক নূরের মুকুট পরানো হবে, যার আলো সূর্যের আলো থেকেও উজ্জ্বল হবে।”
(আবু দাউদ: ১৪৫৬, তিরমিজি: ২৯১৪)
2. প্রত্যেক অক্ষরে ১০ গুণ সওয়াব:
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে তার জন্য এক নেকী পাবে, আর প্রত্যেক নেকী দশগুণ বৃদ্ধি পায়।”
(তিরমিজি: ২৯১০)
3. কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী:
রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
“কুরআন পড়ো, কারণ কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশ করবে।”
(মুসলিম: ৮০৪)
4. কুরআন পাঠ মানসিক প্রশান্তি দেয়:
আল্লাহ বলেন,
“জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।”
(সুরা রা’দ: ২৮)
5. রমজানে কুরআন নাজিল হয়েছে:
“রমজান মাসেই নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।”
(সুরা বাকারা: ১৮৫)
রমজানে কুরআন পড়ার বিশেষ গুরুত্ব:
এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে, তাই বেশি বেশি কুরআন পাঠ করা সুন্নত।
রাসূল (সাঃ) রমজানে জিবরাইল (আঃ)-এর সাথে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। (বুখারী: ৪৯৯৮)
কুরআন পড়লে গুনাহ মাফ হয় এবং নেকি বেড়ে যায়।
### কুরআন শরীফ পড়ার ফজিলত:
1. *হাদীস:*
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
*”তোমরা কুরআন পড়, কারণ কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে।”*
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 804)
2. *হাদীস:*
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
*”যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পড়বে, সে তার বদলায় একটি নেকি পাবে। আর প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলছি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং ‘আলিফ’ একটি অক্ষর, ‘লাম’ একটি অক্ষর এবং ‘মীম’ একটি অক্ষর।”*
(সুনান আত-তিরমিজী, হাদীস নং 2910)
3. *হাদীস:*
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
*”সর্বোত্তম ইবাদত হলো কুরআন পড়া।”*
(সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং 214)
4. *হাদীস:*
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
*”যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং তা অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে এমন একটি মুকুট পরানো হবে, যার আলো সূর্যের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল হবে।”*
(সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং 1453)
### রমজান মাসে কুরআন পড়ার বিশেষ ফজিলত:
1. *হাদীস:*
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
*”রমজান মাসে জিবরীল (আ.) নবী (সা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং কুরআন শরীফ পাঠ করতেন।”*
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং 1902)
2. *হাদীস:*
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
*”রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নেকি করে, সে অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করার সমান সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করে, সে অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায় করার সমান সওয়াব পাবে।”*
(সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং 1641)
### কুরআন পড়ার উপকারিতা:
1. *আত্মিক শান্তি:*
কুরআন পড়লে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর হয়, যা মানসিক শান্তি ও প্রশান্তি আনে।
*”যারা ঈমান আনে এবং তাদের হৃদয় আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে, জেনে রাখো আল্লাহর জিকির দ্বারাই হৃদয় শান্তি পায়।”* (সূরা রাদ, আয়াত ২৮)
2. *জ্ঞান বৃদ্ধি:*
কুরআন হলো জ্ঞানের উৎস। এটি পড়লে মানুষের জ্ঞান ও বোধশক্তি বৃদ্ধি পায়।
3. *পাপ মোচন:*
কুরআন পড়লে গুনাহ মাফ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
*”যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং তা অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার জন্য তা নূর (আলো) হবে এবং তার পাপ মোচনের কারণ হবে।”*
4. *আল্লাহর নৈকট্য লাভ:*
কুরআন পড়লে বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়। এটি ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
### তসবি ব্যবহারের ফজিলত:
তসবি বা জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
*”যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার সুবহানাল্লাহ বলে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়, এমনকি যদি সাগরের ফেনার পরিমাণও হয়।”*
(সহীহ বুখারী ও মুসলিম)